মোহাম্মাদ অলিউল ইসলাম অপু (Oliul Opu)

মোহাম্মাদ অলিউল ইসলাম অপু (Oliul Opu)

আমার মা সিনিয়র স্টাফ নার্স হওয়ায় সুবাদে ছোট বেলা থেকেই পুষ্টিকর খাদ্য এবং নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে আমার ধারনা ছিলো স্বচ্ছ। আমরা কোয়াটারে থাকা অবস্থায় মা মুরগী পুষতো ডিম এবং মাংসর জন্য। আমাদের গোসলখানায় একটা হাউজ ছিলো সেখানে পোষা হত কই আর তেলাপিয়া মাছ। আমার মা সব সময় আমাদের নিরাপদ খাদ্য খাওয়ানোর বিষয়ে খুব সচেতন থাকতো। ২০০৬ সালে যখন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন এন্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্যাকাল্টিতে ভর্তি হলাম তখন আমার খুব পছন্দের একজন শিক্ষক সবাইকে দাড় করিয়ে তাদের ভবিষ্যতে কি হবার ইচ্ছে তা জানতে চেয়ে ছিলো। অনেকেই হিসাবরক্ষক , ব্যাংকার, মাল্টি ন্যাশনাল কম্পানির ব্যবস্থাপক হবার কথা বলেছিল তবে আমি খুব ভয় পাচ্ছিলাম কারন আমি যা বলতে চেয়েছিলাম তা স্যার কিভাবে নেবে বুঝতে পারছিলাম না। যখন আমার সময় আসলো আমি দাঁড়িয়ে বললাম স্যার আমি নিজে বাংলাদেশের প্রথম মাল্টিন্যাশনাল কম্পানির মালিক হতে চাই। স্যার আমার দিকে ৩০ সেকেন্ড একভাবে চেয়েছিলো। তার পর সে ধন্যবাদ দিয়ে আমার অন্য সহপাঠীদের প্রশ্ন করা শুরু করলো। ফাইনান্সে বিবিএ এবং এমবিএ শেষ করে ফ্যামিলির চ্যাপে ১ম একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করি। এর পর কর্পোরেট জবে কয়েক বছর কাটিয়েছি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিন্তু সব সময় মনে হত স্বপ্ন থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। নিজের মেধা অন্যর জন্য বিলিয়ে দেবার থেকে সমাজের সেবায় বিলিয়ে দেয়াকে আমার সব সময় সঠিক মনে হয়েছে। ২০১৯ সালের রমযানে সরকার যে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালিয়েছিলো তাতে আমার তথা দেশবাসীর সামনে উপস্থাপিত হয়েছিলো যে আমরা আসলে চকচকে মোড়কে কি খাচ্ছি। সেই থেকে আমার ভিতরে অর্গানিক ফুড নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয় এবং আমার কাছে মনে হয় এটা যতটা না ব্যবসা তার থেকে বেশী মানব সেবা। শুরু হয় আমার পার্সোনাল রিসার্চ। মানব সেবার নেশা আমাকে নিয়ে গেছে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে। মানিকগঞ্জ, কুষ্ঠিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বরগুনা, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, কুয়াকাটা এদের মধ্যে অন্যতম। ভেজালমুক্ত পণ্য পাওয়া অনেক কঠিন কিন্তু অর্গানিক পণ্য পাওয়া আরো অনেক বেশি কঠিন। আমি চেষ্টা করেছি বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী পণ্য গুলোকে অর্গানিক উপায়ে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেবার। নিরাপদ খাদ্যর ধারনাকে পালটে দিয়ে নতুন কিছু উপস্থাপন করার। বেচে থাকা এবং মরে যাওয়া সম্পূর্ণ সৃষ্টিকর্তার হাতে। তার পরো নিরাপদ অর্গানিক খাদ্য গুলো মানুষের সুস্থভাবে বেচে থাকার উছিলা হিসাবে কাজ করুক এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Main Menu